শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬

সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ডিজিটাল ডিভাইসের আসক্তি ও মাদকের করাল গ্রাস থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই এবং সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ক্রীড়াচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

শুক্রবার (৫ জুন) চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পটিয়ায় আধুনিক মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ ও বাজেট বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। আধুনিক নকশায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। মাঠ সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার ঘটিয়ে তৃণমূলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের তুলে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, স্টেডিয়াম নির্মাণের পর এর সুষ্ঠ ব্যবহার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ক্রীড়াবিদদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতীয় ক্রীড়া ভাতার আওতায় খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এবং তাদের পেশাগত স্বীকৃতি দিতে ‘ক্রীড়া কার্ড’ প্রদান করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩০০ জন খেলোয়াড়কে এ কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ৫০০ জনকে এ সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে দ্বিতীয়বারের মতো দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজন করা হবে। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে দল গঠনের মাধ্যমে ১০টি ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে, যা তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন পটিয়া আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।
তিনি বলেন, পটিয়ায় ক্রীড়া উন্নয়নের লক্ষে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পটিয়া আজ এক নতুন যুগে পদার্পণ করল। সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জনগণের ওপর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আজ পটিয়া থেকেই তার বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম। বক্তব্য চলাকালে তিনি পটিয়ার ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, পটিয়া হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত স্থান, যেখানে তিনি একটি জিমনেসিয়াম উদ্বোধন করেছিলেন। সেই স্মৃতিকে অম্লান রাখতে এবং স্থানীয় খেলোয়াড়দের মানোন্নয়নে জিমনেসিয়ামটিকে আধুনিকীকরণ করার জোরালো দাবি জানান তিনি।

এছাড়াও তিনি পটিয়ায় একটি আধুনিক স্টেডিয়াম, খলিল মীর ডিগ্রি কলেজে একটি স্টেডিয়াম এবং পশ্চিম পটিয়ায় একটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতায় পটিয়ার এই দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান। এ ছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি প্রকল্পটির কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ১২ মাস মেয়াদি এই প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ৮ কোটি ২৭ লাখ ৬ হাজার ৮৬১ টাকা। সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির নির্মাণকাজ করছে খাগড়াছড়িভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস. অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেড।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, দীর্ঘদিনের দাবির পর পটিয়ায় স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ায় এলাকার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। স্টেডিয়ামটি নির্মিত হলে স্থানীয় খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং এলাকার ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রসারে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

Translate