যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশনাসংক্রান্ত প্রতিনিধি পরিষদের একটি ভোটের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পদক্ষেপকে ‘অদেশপ্রেমিক’ আখ্যা দিয়ে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, এটি তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য আমার চূড়ান্ত আলোচনার ঠিক মাঝামাঝি সময়ে এই ভোটটি আনা হয়েছে। এমন অদেশপ্রেমিক কাজ কে করতে পারে? আলোচনা কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা তারা ভালো করেই জানে।’
ট্রাম্পের প্রতি একপ্রকার অনাস্থা জানিয়ে বুধবার তার দল রিপাবলিকানের চারজন সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়ে এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। এর ফলে প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটে পাস হয় এবং এটি এখন সিনেটে যাবে।
তবে ট্রাম্পের এই ক্ষোভের পেছনে অন্য কারণও রয়েছে। তিনি ডেমোক্র্যাটদের নিশানা করে বলেন, ‘আমাকে আরও একটি বড় বিজয় দেওয়ার চেয়ে তারা বরং আমাদের দেশের ব্যর্থতা দেখতে পছন্দ করবে।’
একই সঙ্গে নিজের দলের চার সদস্যকে তীব্র আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, ‘ওই চার রিপাবলিকানের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা, তারা সস্তা জনপ্রিয়তা খোঁজা লোক! নিজেদের এই কাজের জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত।’
মূলত প্রতীকী এই পদক্ষেপটি তিন মাস আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনও রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ ট্রাম্পকে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান গুটিয়ে নিতে বাধ্য করার জন্য অনুমোদন দিলো। তবে এই বিলটি শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের আপত্তির মুখোমুখি হবে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইসরায়েলের পাশাপাশি ইরানে হামলা চালানোর মাধ্যমে ট্রাম্প সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ করছেন ডেমোক্র্যাটরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট নামের আইন অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীকে কোনও সংঘর্ষে নিয়োজিত করার পর কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টরা ৬০ দিন সময় পান। সেই সময়সীমা কয়েক সপ্তাহ আগেই পার হয়ে গেছে। ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ট্রাম্প এখন আইন লঙ্ঘন করে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র: এএফপি