বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘সব দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে দিতে চাই’ বক্তব্যের মধ্যে ‘সব দল’ বলতে আওয়ামী লীগ অন্তর্ভুক্ত কিনা, তা নিয়ে রাজনীতিতে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তার এই বক্তব্যের মধ্যে অস্পষ্টতা রয়েছে। কারণ তিনি নির্দিষ্ট করে কোনও দলের নাম উল্লেখ করেননি। মূলত এটি নিয়েই চলছে আলোচনা।
বিএনপি মহাসচিবের এই বক্তব্যের পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এর মধ্যে আওয়ামী লীগ আছে কিনা। তবে বিএনপি এর সরাসরি কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা সুনির্দিষ্ট তালিকা এখনও প্রকাশ করেনি। সব দল বলতে কারা তাও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।
এমন প্রশ্ন তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আজকে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, “সব দলকে কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দিতে চাই।” আমরা স্পষ্ট জানতে চাই তাদের সব দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ আছে কিনা?’
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আইনি বাধা
জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে হত্যা, গুম, খুন এবং সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১২ মে আওয়ামী লীগ এবং এর সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে একটি গেজেট প্রকাশ করেছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির নেতাদের বিচারকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাসের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞাকে আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়। জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাস করার ফলে কোনও সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সরকারের হাতে স্থায়ীভাবে অর্পিত হয়েছে। ফলে আইন বাতিলের আগে কার্যত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর কোনও সুযোগ বলে জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিএনপি এবং বর্তমান সরকারের একাংশের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার আইনি সুযোগ নেই। যেখানেই তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ অবস্থায় বর্তমানে আইনি গেজেট এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যের কারণে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ আছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তরুণ নেতারা জোরালো দাবি তুলেছেন যে, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগে আওয়ামী লীগকে কোনও ধরনের রাজনৈতিক বা নির্বাচনি কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া যাবে না। অপরদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ দাবি করা হয়েছে। তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ও জনগণের মুখোমুখি হওয়ার গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে সরব রয়েছে। এ অবস্থায় ‘সব দলের’ মধ্যে আওয়ামী লীগ নেই।
আওয়ামী লীগের সুযোগ নেই
এমনটি জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি আজ বিকালে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুধু বৈধ ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রমের বিষয়ে কথা বলেছেন। সেখানে আওয়ামী লীগের নাম আসার সুযোগ নেই। কারণ তারা আইনে নিষিদ্ধ। তাদের নেতাকর্মীরাও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সব দলের মধ্যে তারা নেই। আর জাতীয় পার্টি তো কাজ করছেই। বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তাই বহুদলের মতামতকে শ্রদ্ধা জানায়। সবাইকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে চায়।’
বুধবার (৩ জুন) বিকালে ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লী উপজেলা পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব বলেছেন, ‘আমরা সমস্ত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে তাদের কর্মকাণ্ড করতে দিতে চাই। জনগণের সামনে তাদের যেতে দিতে চাই, নির্বাধে তারা তাদের বক্তব্য দিক, সেটা চাই। এর মধ্যে জনগণ ঠিক করবেন, তারা কাকে চান।’