বুধবার ৩রা জুন, ২০২৬

ইউনিয়ন কক্ষে কোটি টাকা, ক্যাম্পাসে শয়নকক্ষ; কলকাতার কলেজে তোলপাড়

ভারতের কলকাতার অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ছাত্র ইউনিয়ন কক্ষ থেকে প্রায় এক কোটি রুপির নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পরে তল্লাশিতে আরও দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয়নকক্ষ, মদের বোতল, কনডমের প্যাকেট এবং একটি রিভলভার উদ্ধার হওয়ার দাবি করা হয়েছে। ঘটনার জেরে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র রাজনীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আবারও আলোচনায় এসেছে।

প্রায় এক বছর পর কলেজটির ছাত্র ইউনিয়ন কক্ষ খোলা হয়। ২০১৯ সাল থেকে কলেজগুলোতে ক্যাম্পাস নির্বাচন না হওয়ায় এবং গত বছরের জুনে সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজ ইউনিয়ন রুমে ২৪ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনার পর ২০২৫ সালে কলকাতা হাইকোর্ট তৎকালীন তৃণমূল সরকারকে ইউনিয়ন রুমগুলো বন্ধের নির্দেশ দেয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ছাত্র ইউনিয়ন তহবিলের ব্যয়ের নিরীক্ষা করতে কলেজগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার পর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। আর তাতেই বেরিয়ে আসে এই চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউনিয়ন কক্ষের একটি পুরোনো কাঠের আলমারি থেকে দুইটি বড় বাক্সভর্তি নগদ অর্থ পাওয়া যায়। সেখানে ১০০ ও ৫০০ রুপির নোটের বান্ডিল রাখা ছিল। অর্থের একটি বড় অংশ উইপোকায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে সেগুলো সেখানে সংরক্ষিত ছিল।

এ ঘটনার পর পুরো কলেজ চত্বরে তল্লাশি চালানো হয়। এতে ক্যাম্পাসের ভেতরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দুটি শয়নকক্ষের সন্ধান মেলে। কক্ষগুলোতে সংযুক্ত বাথরুম, বিছানা, দামি গদি ও বালিশ ছিল বলে জানা গেছে।

কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব কক্ষ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার ছেলে শিবাশিস ব্যবহার করতেন। তবে দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তল্লাশিতে কলেজের ছাদ থেকে কয়েকটি মদের বোতল এবং ছাত্রদের কমনরুম থেকে কনডমের প্যাকেটও উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ইউনিয়ন কক্ষের ভেতরে কালো মোড়কে রাখা একটি রিভলভারও উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আগ্নেয়াস্ত্রটি জব্দ করে।

ঘটনার পর বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেয়। বিজেপি অভিযোগ করেছে, উদ্ধার হওয়া অর্থ কলেজে ভর্তি-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। দলটির নেতাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া, আনন্দবাজার পত্রিকা, সংবাদ প্রতিদিন, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা

Translate