মঙ্গলবার ১৯শে মে, ২০২৬

চীনে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ১০ জনের মৃত্যু

দক্ষিণ ও মধ্য চীনে প্রবল বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চীনা আবহাওয়াবিদদের মতে, এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া প্রায় ১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে চীনের আবহাওয়া প্রশাসন (সিএমএ) মঙ্গলবার (১৯ মে) তীব্র ঝড়-বৃষ্টির জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি রেখেছে এবং সতর্ক করেছে যে এই প্রবল বৃষ্টিপাত ব্যবস্থাটি এখন তার সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্রুত ত্রাণ তৎপরতা চালানোর জন্য চীনের সেন্ট্রাল ফ্লাড কন্ট্রোল অ্যান্ড ড্রাউট রিলিফ হেডকোয়ার্টার্স হুনান ও গুয়াংশি অঞ্চলে চতুর্থ স্তরের জরুরি অবস্থা জারি করেছে। এছাড়া হুবেই, চংকিং এবং গুইঝৌ প্রদেশেও একই স্তরের সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। মুষলধারে হওয়া এই বৃষ্টিপাত মধ্য হুবেই প্রদেশের পূর্বের সব ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, হুবেই প্রদেশের ৩৩৭টি শহরে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে গুয়াংশি অঞ্চলে ১৫ জন আরোহী নিয়ে একটি পিক-আপ ভ্যান পাহাড়ি ঢলে ফুলেফেঁপে ওঠা নদীতে পড়ে গেলে ছয় জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া হুবেই প্রদেশের একটি নিচু গ্রামে আকস্মিক বন্যায় তিন জন এবং দক্ষিণ হুনান প্রদেশে আরও এক জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, হুবেই প্রদেশের জিংঝৌ শহরের বাসিন্দারা হাঁটু সমান পানিতে দাঁড়িয়ে আছেন এবং নিমজ্জিত রাস্তায় সাঁতরে বেড়ানো মাছ ধরছেন। সেখানকার বহু গাড়ি সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপদ্রুত অঞ্চলের সব স্কুল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং পরিবহন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বন্যাকবলিত এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগর, দক্ষিণ চীন সাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ধেয়ে আসা জলীয় বাষ্পের একীভূত মিশ্রণের ফলেই এত বিশাল অঞ্চল জুড়ে এই নজিরবিহীন বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে যে আগামী দুই দিন এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হতে পারে, যার ফলে ইয়াংসি নদীর মধ্য ও নিম্ন অববাহিকায় আরও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা।

Translate