সোমবার ২০শে এপ্রিল, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে: এমআই-সিক্সের সাবেক প্রধান

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এক মাস ছুঁইছুঁই। এর মধ্যেই বিশ্ব রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-সিক্স-এর সাবেক প্রধান স্যার অ্যালেক্স ইয়ঙ্গার। তার মতে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরান বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাটির নেতৃত্ব দেওয়া ইয়ঙ্গার দ্য ইকোনমিস্ট-এর একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তার মতে, বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধের কাজটিকে ছোট করে দেখেছিল এবং আমার মনে হয় প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তারা ইরানের কাছে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

স্যার অ্যালেক্স ইয়ঙ্গার মনে করেন, প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি সহনশীলতা দেখাচ্ছে ইরান। তিনি বলেন, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ইরান সরকার যেকোনও ধারণার চেয়ে বেশি স্থিতিশীল।

সাবেক এই গোয়েন্দা প্রধান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্পের কিছু কথা ইরানকে এটিই বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে যে, এটি তাদের অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ। ইয়ঙ্গার বলেন, আমেরিকা যেখানে নিজের পছন্দে একটি যুদ্ধে নেমেছে, সেখানে ইরান লড়ছে টিকে থাকার জন্য। এই মানসিকতাই ইরানকে মার্কিন প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি সময় লড়াইয়ে টিকে থাকার শক্তি দিচ্ছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং সাবেক নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানিসহ অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। কিন্তু ইরান দমে যায়নি। তারা মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা রকেট হামলা চালিয়েছে এবং বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে।

ইয়ঙ্গার মনে করেন, ইরান তার দুর্বল অবস্থানকেও খুব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজে লাগিয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে রকেট হামলা চালিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, তারা জ্বালানি যুদ্ধের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে এবং হরমুজ প্রণালিকে হুমকির মুখে রেখে যুদ্ধকে বিশ্বায়ন করেছে। তারা তাদের দুর্বল কার্ডগুলোকেও খুব ভালো খেলেছে।

তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হাতে থাকায় ইরান এখন এই যুদ্ধের চালকের আসনে বসেছে।

দীর্ঘ কর্মজীবনে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ‘সহিংসতা ও নৃশংসতা’র মোকাবিলা করা ইয়ঙ্গার আক্ষেপ করে বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে ইরান এই যুদ্ধে জিতছে, এমন উপসংহারে পৌঁছাতে হচ্ছে তাকে।

জানুয়ারিতে ইরানে হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনের ওপর আইআরজিসি-র দমনপীড়নকে ‘ভয়াবহ’ ও ‘নৃশংস’ বলে বর্ণনা করেন তিনি। তার দাবি, আইআরজিসি রাস্তায় প্রায় ১০ হাজার মানুষকে ‘মেশিনগান দিয়ে গুলি করে হত্যা’ করেছে। যদিও ইরানি কর্মকর্তারা ৫ হাজার এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো ৭ হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ দাবি করেছিল যে তারা ইরানে সরকার পতন ঘটাতে পারবে। এই আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই ট্রাম্প যুদ্ধে জড়াতে প্রলুব্ধ হন। কিন্তু ইয়ঙ্গার সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ওপর সবসময় ভরসা করা যায় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, ওই সময় গোয়েন্দা সতর্কতা থাকলেও নেতানিয়াহু সরকার তা উপেক্ষা করেছিল, যা ছিল একটি বড় ‘গোয়েন্দা ব্যর্থতা’।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Translate