সোমবার ২০শে এপ্রিল, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি অভিমুখে রওনা দিয়েও ফিরে গেলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দর ত্যাগ করলেও ৩১ নাবিক নিয়ে এবার আটকে পড়েছে শারজাহ বন্দরের অদূরে। জাহাজটির পরবর্তী গন্তব্য ছিল ভারতের মুম্বাই বন্দর। সেখানে যেতে হলে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হবে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। জাহাজটি আসার জন্য রওনা দিলেও আরব আমিরাতের কোস্টগার্ড সদস্যরা এ মুহূর্তে ওই পথে না যাওয়ার পরামর্শ দেন।

বিএসসি সূত্র জানিয়েছে, ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইয়িদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে পৌঁছায়। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পরদিন ওই বন্দরের ১০ নম্বর জেটিতে ভেড়ে সেটি। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়। পরে পণ্য খালাস শুরু হয়ে বুধবার সম্পন্ন হয়।

পণ্য খালাসের পর পরবর্তী গন্তব্যে যাওয়ার জন্য হরমুজ প্রণালির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এমভি বাংলার জয়যাত্রা। এরপর আরব আমিরাতের কোস্টগার্ড সদস্যরা এ মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণ ওই নৌপথ অতিক্রম না করার জন্য পরামর্শ দিলে জাহাজটি ফিরে আসে। বর্তমানে এমভি বাংলার জয়যাত্রা জাহাজটি শারজাহ বন্দর সীমার ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর করে বসে আছে বলে জানিয়েছেন বিএসসির কর্মকর্তারা।

বিএসসির এক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে ভেড়ার পরদিন মাত্র ২০০ মিটার দূরত্বে একটি তেল রিজার্ভারে মিসাইল হামলার পর আগুন ধরে যায়। শুধু তাই নয়, আকাশে একের পর এক গোলাবারুদ, মিসাইল ছোটাছুটি করতে দেখে এমভি বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের নাবিকরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

এরই মধ্যে জাহাজটির ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম এক ভিডিও বার্তায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা জাহাজটি ৩১ জন নাবিক নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে পণ্য খালাসের পর সারজাহ বন্দরের অদূরে নোঙর করেছে। জাহাজের মাস্টারের সঙ্গে জুমে সব সময় কথা হচ্ছে। জাহাজে বেশ কয়েক মাসের পানি ও শুকনো খাবারসহ সব ধরনের খাবার এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি আছে। যখন প্রয়োজন হয় ভিডিও কলে কথা হচ্ছে। সবাইকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাহাজটির পরবর্তী গন্তব্য ভারতের মুম্বাই বন্দরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ওই রুট এ মুহূর্তে অতিক্রম করা যাচ্ছে না। তবে কাতার বন্দর থেকে আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে স্টিল কার্গো নেওয়ার একটি ভাড়ার অর্ডার এসেছে। জাহাজটি যেহেতু ওই স্থানে আছে, তাই সেখান থেকে ভাড়াটা নেওয়া যায় কিনা ক্যাপ্টেনের সঙ্গে কথা বলে দেখবো।’

কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘এটি ছাড়াও বিএসসির মালিকানায় থাকা আরও ৬টি জাহাজ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে রয়েছে। সেগুলো নিরাপদে আছে।’

এর আগে, ২০২২ সালের ১ মার্চ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের কাছে আটকে পড়া বিএসসির জাহাজ এমভি ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এক বাংলাদেশি নাবিক নিহত হন। পরে জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিএসসি।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে বিএসসির বহরে যুক্ত হয় বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। ৩৯ হাজার টন ধারণক্ষমতার জাহাজটি নির্মাণ করে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)। চীন সরকারের সঙ্গে যৌথ অর্থায়নে জাহাজটি কেনা হয়েছিল।

Translate