রবিবার ৩রা মে, ২০২৬

ইরানে ধর্মীয় নেতার শাসনে ‘আপত্তি’ নেই ট্রাম্পের

ইরানের পরবর্তী শাসক হিসেবে আবারও কোনও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আসলেও তাতে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটি গণতান্ত্রিক হবে কি না, তা নিয়েও তার কোনও মাথাব্যথা নেই। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, সেটি নির্ভর করছে ব্যক্তির ওপর। ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে আমার কোনও সমস্যা নেই। আমি অনেক ধর্মীয় নেতার সঙ্গে কাজ করি এবং তারা চমৎকার।

ট্রাম্প মনে করেন, ইরানের জন্য গণতান্ত্রিক নেতার খুব একটা প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, আমি বলতে চাচ্ছি এমন একজন নেতা প্রয়োজন যিনি নিরপেক্ষ ও ন্যায়পরায়ণ হবেন। তিনি ভালো কাজ করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখবেন। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ, যারা আমাদের অংশীদার, তাদের সঙ্গেও ভালো আচরণ করবেন।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট শুক্রবার সেই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরান আসলে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করলো কি না, তা কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে ট্রাম্প নিজেই নির্ধারণ করবেন। যখন তিনি মনে করবেন ইরান আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি নয় এবং অপারেশন এপিক ফিউরির লক্ষ্যগুলো অর্জিত হয়েছে, তখনই ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের পর্যায়ে রয়েছে বলে গণ্য হবে; তারা মুখে সেটি বলুক বা না বলুক।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আবারও ইরান ও ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেন। গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় এক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর দেশটির দায়িত্ব নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ, যাকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও খনিজ সম্পদ নিয়ে কাজ করার উপযোগী মনে করা হচ্ছে। ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্প মাদুরোর সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখলেও দেশটির তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং তা সরাসরি বাজারে বিক্রি করছেন।

ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন, ইরানের নতুন শাসক নির্বাচনে তিনি সরাসরি জড়িত থাকতে চান। নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছিলেন। এদিকে খামেনির মৃত্যুর পর ট্রাম্প ইরানি জনগণকে রাজপথে নেমে সরকার পতনের আহ্বান জানালেও তাতে তেমন সাড়া মেলেনি।

আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে ব্যাপক হামলা চালালেও তেহরান দমে যায়নি। তারা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে এখন ড্রোন ও স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল অভিযান চালায়, তবে ইরান তার মোকাবিলা করতে প্রস্তুত এবং তারাই জয়ী হবেন বলে মনে করেন।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Translate