সোমবার ২০শে এপ্রিল, ২০২৬

ইরান সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে পারে যে ৬ কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে যোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির বেশ কয়েকটি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী। সম্প্রতি গঠিত একটি জোটের অধীনে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল থেকে তারা ইরানে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি কোয়ালিশন অব পলিটিক্যাল ফোর্সেস অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তান নামে এই জোট গঠিত হয়। এতে মূলত পাঁচটি দল ছিল- ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তান (কেডিপিআই), কুর্দিস্তান ফ্রি লাইফ পার্টি (পিজ্যাক), কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টি (পাক), খাবাত অর্গানাইজেশন এবং কোমালা অব দ্য টয়লার্স। বুধবার ষষ্ঠ দল হিসেবে কোমালা পার্টি অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তান এই জোটে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

আল-মনিটরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই জোটকে ইতোমধ্যে অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তারা ইরাকি কুর্দিস্তান সীমান্ত দিয়ে ইরানে প্রবেশ করতে পারে। তবে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক কুর্দিদের অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ কিছুটা কৌশলী অবস্থানে থেকে জানিয়েছেন, এই গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দেওয়া মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়।

জোটভুক্ত প্রধান গোষ্ঠীগুলো

কেডিপিআই: এটি ইরানের বৃহত্তম কুর্দি বিরোধী দল হিসেবে পরিচিত। ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী, তাদের প্রায় ১ হাজার সশস্ত্র যোদ্ধা রয়েছে। গত মঙ্গলবারও ইরাকের কোয়া শহরে তাদের স্থাপনায় ইরান রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

 

পিজ্যাক: তুরস্কের পিকেকে’র সহযোগী এই সংগঠনটিকে সামরিকভাবে সবচেয়ে সক্ষম মনে করা হয়। এদের প্রায় ৩ হাজার যোদ্ধা রয়েছে। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র এদের ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল।

পিএকে: এটি একটি ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী। গত জানুয়ারিতে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে তারা আইআরজিসির ওপর হামলার ঘোষণা দিয়েছিল। গত বুধবারও ইরানি ড্রোন হামলায় তাদের এক সদস্য নিহত হয়েছে।

খাবাত অর্গানাইজেশন: ঐতিহাসিকভাবে ইসলামপন্থি এই দলটি তুলনামূলক ছোট। এদের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না।

কোমালা: বামপন্থি আদর্শের এই দলগুলোর একাধিক উপদল রয়েছে। তাদের যোদ্ধার সংখ্যা ১ হাজারের কম বলে ধারণা করা হয়।

ইরাক ও তুরস্কের কুর্দি দলগুলোর সঙ্গে এই গোষ্ঠীগুলোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে লড়াই করবে। দীর্ঘদিন ধরে ইরান সরকার এই গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে এবং ২০২৩ সালে ইরাক সরকার এদের সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছিল। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তারা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

Translate