নির্বাচন কমিশনে (ইসি) একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং পোস্টাল ব্যালট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দ্বিতীয় দিনের মতো এই কর্মসূচি পালন করছেন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সামনে ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক নেতাকর্মী অবস্থান নিয়েছেন। ইসির দেওয়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে রাস্তায় বসে বিভিন্ন স্লোগান ও বক্তব্য দিচ্ছেন তারা। এ সময় তারা ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’ স্লোগান দিতে থাকে।
এদিকে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসি কার্যালয়ের আশপাশে পুলিশ, আনসার, র্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
কর্মসূচির শুরুতে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য আমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। একটি বিশেষগোষ্ঠী নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। একটি বিশেষ গোষ্ঠী জেতার জন্য এক এলাকার ভোটারকে অন্য এলাকায় পাঠিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ গোষ্ঠীর নাম বলবো না। তাদের নাম বলে হাইপ তুলে দিতে চাই না। তারা ইসির কিছু লোককে ব্যবহার করে অনিয়মের চেষ্টা করছে।
এ সময় ছাত্রদলের আরেক নেতা বলেন, ডাকসু, রাকসুসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি দল ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে তারা একই কায়দায় ইঞ্জিনিয়ারিং করতে চায়। এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।
এর আগে রবিবার (১৮ জানুয়রি) অবস্থান কর্মসূচির মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে আলোচনায় বসে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। আলোচনা শেষে ছাত্রদলের সভাপতি বলেছেন, তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রদলের ইসি ঘেরাও কর্মসূচি চলবে। পরে সন্ধ্যায় তারা তাদের কর্মসূচি শেষ করে আজ থেকে আবার শুরু করেন।
ছাত্রদলের তিনটি ইস্যু হলো–
১. পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনি সংকেত।