বুধবার ২২শে এপ্রিল, ২০২৬

রাহমানকে কঙ্গনা: ‌‘আপনার মতো বিদ্বেষপূর্ণ মানুষ দেখিনি’

লেখক শোভা দে, গায়ক শান ও কিংবদন্তি গীতিকার জাভেদ আখতারের পর এবার এ আর রাহমানের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন অভিনেত্রী ও রাজনীতিক কঙ্গনা রনৌত।

বলিউডে নিজের কাজ কমে যাওয়ার পেছনে ‘হয়তো সাম্প্রদায়িক কারণ থাকতে পারে’—রহমানের এই বক্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হলো।

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে কঙ্গনা রনৌত এ আর রাহমানকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও বিদ্বেষপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন। তিনি দাবি করেন, তার পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ইমার্জেন্সি’র সংগীত পরিচালনার জন্য রাহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলেও তিনি সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানান। কঙ্গনার ভাষায়, রাহমান নাকি ছবিটিকে ‘প্রোপাগান্ডা ফিল্ম’ মনে করেছিলেন।

কঙ্গনা লেখেন, ‘‘প্রিয় এ আর রাহমান, আমি গেরুয়া দলকে সমর্থন করি বলেই ইন্ডাস্ট্রিতে এত বৈষম্য ও পক্ষপাতের শিকার হই। কিন্তু তবু বলতে বাধ্য হচ্ছি—আপনার মতো এত পক্ষপাতদুষ্ট ও বিদ্বেষপূর্ণ মানুষ আমি আর দেখিনি। আমি মরিয়া হয়ে ‘ইমার্জেন্সি’ ছবির গল্প আপনাকে শোনাতে চেয়েছিলাম। গল্প শোনা তো দূরের কথা, আপনি আমার সঙ্গে দেখা করতেও রাজি হননি। আমাকে বলা হয়েছিল, আপনি ‘প্রোপাগান্ডা ফিল্ম’-এর অংশ হতে চান না।’’

তিনি আরও লেখেন, “অথচ ‘ইমার্জেন্সি’ সব সমালোচকের কাছেই প্রশংসিত হয়েছে। এমনকি বিরোধী দলের নেতারাও ছবিটির ভারসাম্যপূর্ণ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে আমাকে চিঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু আপনি আপনার বিদ্বেষে অন্ধ। আমার সত্যিই দুঃখ হয়।”

সম্প্রতি বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রাহমান বলেন, গত কয়েক বছরে হিন্দি চলচ্চিত্রে তার কাজ কমে গেছে। তিনি এর পেছনে গত আট বছরে ক্ষমতার ভারসাম্য বদল এবং সম্ভাব্যভাবে ‘একটি সাম্প্রদায়িক বিষয়’ কাজ করতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন।

রাহমান বলেন, “এই বিষয়গুলো আমার কাছে সরাসরি আসে না। অনেকটা ‘চাইনিজ হুইস্পার্স’-এর মতো করে শুনতে পাই।”

ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘এখন অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা চলে গেছে এমন মানুষের হাতে, যারা সৃজনশীল নন। এটা সাম্প্রদায়িক ব্যাপারও হতে পারে, তবে সেটা আমার সামনে প্রকাশ্যে আসে না। মুখে মুখে শুনি—আপনাকে বুক করা হয়েছিল, কিন্তু মিউজিক কোম্পানি শেষ পর্যন্ত পাঁচ জন আলাদা সুরকার নিয়েছে। আমি বলি, ভালোই তো—পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেলাম।’

রাহমানের মন্তব্যের পর লেখক ও কলামিস্ট শোভা দে একে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক মন্তব্য’ বলে আখ্যা দেন। তার মতে, বলিউড দীর্ঘদিন ধরেই সাম্প্রদায়িক পক্ষপাত থেকে মুক্ত।
শোভা দে বলেন, ‘আমি ৫০ বছর ধরে বলিউড দেখছি। যদি কোনও জায়গা সাম্প্রদায়িক টানাপড়েন থেকে মুক্ত হয়ে থাকে, তা হলো বলিউড। প্রতিভা থাকলে সুযোগ মিলবেই।’

গায়ক শানও রহমানের বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক বা সংখ্যালঘু দৃষ্টিভঙ্গির সম্ভাবনা নাকচ করেন। আইএএনএসকে তিনি বলেন, ‘আমি বহু বছর ধরে গান গাইছি, তবু সব সময় কাজ পাই না। কিন্তু আমি এটাকে ব্যক্তিগতভাবে নিই না। সংগীতে সাম্প্রদায়িকতা কাজ করে না।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘যদি এমন কিছু থাকতো, তাহলে গত ৩০ বছর ধরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত আমাদের তিন সুপারস্টার এত বড় জায়গায় থাকতে পারতেন না। ভালো কাজ করুন, ভালো গান করুন—এই চিন্তাই যথেষ্ট।’

কিংবদন্তি গীতিকার জাভেদ আখতারও একই মত প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি কখনও এমনটা অনুভব করিনি। মুম্বাইয়ে সবাই রাহমানকে অসম্ভব সম্মান করে। তিনি এত বড় মাপের মানুষ যে অনেক ছোট প্রযোজক তার কাছে যেতে সাহসই পান না। কিন্তু এর মধ্যে কোনও সাম্প্রদায়িক উপাদান আছে বলে আমি মনে করি না।’

Translate