নাইজেরিয়ার একটি গ্রাম থেকে অন্তত শতাধিক মানুষকে অপহরণ করেছে অস্ত্রধারীরা। অপহৃতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
গত শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরের দিকে জামফারা অঙ্গরাজ্যে বুক্কুইয়ুম জেলার গামদাম মাল্লাম গ্রামে একদল অস্ত্রধারী অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার ঘটনা রয়টার্স প্রতিনিধিকে ফোনে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় আইনপ্রণেতা হামিসু ফারু। তিনি বলেন, শনিবার সকাল থেকে অন্তত ১০০ জনকে অপহরণ করা হয়েছে। এরপর ব্যান্ডিটরা (ডাকাত) প্রবল বৃষ্টি মাথায় নিয়ে নাসারাওয়া বুরকুল্লুমে হামলা চালায়। তারা নদী পেরিয়ে নিকটবর্তী গ্রামগুলোতেও প্রবেশ করে এবং রুয়ান রানা নামের আরেক গ্রাম থেকে আরও ৪৬ জনকে ধরে নিয়ে যায়।
দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্য বেশ কয়েক বছর ধরে অস্ত্রধারীদের হামলায় টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়ভাবে ব্যান্ডিট নামে পরিচিত অস্ত্রধারীদের দৌরাত্ম্যে সেখানে চলাফেরা এবং কৃষিকাজ হুমকির মুখে পড়েছে।
নাইজেরিয়ার ভূরাজনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসবিএম ইন্টেলিজেন্স জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে চলতি বছর জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই অন্তত চার হাজার ৭২২ জন মানুষ অপহৃত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অথচ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবহেলার কারণে এই অঞ্চলে সামান্য খবর পর্যন্ত প্রচলিত সংবাদমাধ্যমে পৌঁছাতে তিন থেকে চার দিন বিলম্ব হয়।
শনিবারের ঘটনা সম্পর্কে গামদাম মাল্লাম গ্রামের প্রধান মুহাম্মাদু মাই আঙ্গুয়া বলেছেন, কয়েক ডজন মোটরবাইকে চড়ে এসে হামলাকারীরা নির্বিচারে গুলি ছুঁড়তে থাকে। তাদের গুলিতে অন্তত দুজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা গেছে।
রয়টার্স প্রতিনিধিকে আঙ্গুয়া বলেছেন, তারা একাধিক লোককে হত্যার পর অনেক নারী ও শিশুকে অপহরণ করে। এরপর সবাইকে জোর করে মাকাকারি জঙ্গলে নিয়ে যায়। গ্রামের এক বাসিন্দা হুজাইফা ইসা বলেন, হামলাকারীরা দু দলে ভাগ হয়ে যায়। একদল গ্রামবাসীকে অপহরণ করে আর গবাদিপশু লুট করতে থাকে। আরেকদল এলাকার প্রধান সড়কের রাস্তা আটকে রাখে। কেউ পালানোর চেষ্টা করলেই নির্বিচারে গুলি করছিল দ্বিতীয় দলটি।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখানে যেন সরকারের কোনও অস্তিত্ব নেই। নিজেদের ভূমিতে আমাদের দাস বানিয়ে রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই একই অস্ত্রধারী দল আবার জঙ্গলের সীমানা পেরিয়ে গ্রামের দিকে আসার খবর পেয়েছেন তারা। তারা আরও একদফা হামলার শঙ্কা করছেন।
পুরো ঘটনার বিষয়ে জামফারা পুলিশের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল রয়টার্স। তবে তাদের অনুরোধে কোনও সাড়া দেয়নি কর্তৃপক্ষ।