কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সর্বত্র। আর এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগকে ‘শ্রদ্ধা’ জানাতে গিয়ে কলম্বিয়ার এক দম্পতি যে কাজ করেছেন, তাতে আপনার চোখ ছানাবড়া হওয়ার জো। তারা তাদের সদ্যোজাত মেয়ের নাম রেখেছেন ‘চ্যাট ইপিতি’।
শুধু নাম রেখেই এ দম্পতি ক্ষান্ত হননি, তারা জাতীয় নিবন্ধন কার্যালয়ে গিয়ে এ নামেই মেয়ের জন্মনিবন্ধন করিয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এই মা–বাবা তাদের মেয়ের নাম রেখেছেন ‘চ্যাট ইপিতি বাসতিদাস গেররা’।
এ ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সন্তানের জন্য মা–বাবার এমন নাম বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে একমত হতে পারেননি। সে কারণে মেয়েটিকে ভবিষ্যতে কোনো পরিণতির মুখোমুখি হতে পারে বলেও জানিয়েছেন নেটিজেনরা।
যদিও কলম্বিয়ায় এ ধরনের নাম রাখা নিয়ে বিষয়ে কোনো আইন নেই। দেশটিতে কোন ধরনের নাম রাখা যাবে, আর কোন ধরনের নাম রাখা যাবে না— এমন কোনো আইনি বিধিনিষেধ নেই। বরং দেশটিতে জন্মনিবন্ধনের সরকারি কাগজপত্র ঘাঁটলে এমন উদাহরণ আরও পাওয়া যাবে। তবে ন্যাশনাল সিভিল রেজিস্ট্রির কর্মকর্তাদের এমন ক্ষমতা দেওয়া আছে, কোনো নাম যদি সন্তানের মর্যাদা বা সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে বলে তারা মনে করেন, তবে তা নিবন্ধন করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।
জাতীয় নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ অতীতে ‘মিপেরো’ (আমার কুকুর) বা ‘সাতানাস’ (শয়তান)-এর মতো নাম রাখা নিষিদ্ধ করেছেন। তাদের যুক্তি— এ ধরনের নাম স্পষ্টভাবে একজন মানুষের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে।
এর আগে কলম্বিয়ায় সন্তানের নাম ‘ফেসবুক’ রাখার নজিরও আছে। তবে শিশু মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীরা শিশুদের এ ধরনের নাম রাখা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আর অস্বাভাবিক নাম, যা ঠাট্টার সুযোগ করে দেয়, তা শিশুকে তাচ্ছিল্য বা উপহাসের পাত্র করে তুলতে পারে। এটা শিশুর আত্মমর্যাদা ও মানসিক সুস্থতাকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও তারা মনে করেন।
আবার আমেরিকার দেশগুলোতে হলিউড তারকা কিংবা অন্যান্য চলচ্চিত্রের বিভিন্ন চরিত্রের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখার প্রচলন রয়েছে। আর স্প্যানিশ উচ্চারণে প্রায়ই বিদেশি নামের বানানের পরিবর্তন হয়ে যায়, যা নামে অনন্য সংমিশ্রণ তৈরি করে।